কিট সংকটের কারণে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে (কুমেক) করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছে। গত তিন দিন ধরে কুমেকে করোনার পরীক্ষা করা হচ্ছে না। কুমেকে পরীক্ষা বন্ধ থাকার কারণে করোনার স্যাম্পল সংগ্রহ করাও স্থগিত রেখেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া পরীক্ষার জন্য আগে দিয়ে রাখা প্রায় এক হাজার নমুনা পড়ে আছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার করোনার উপসর্গ থাকা ভুক্তভোগীরা। রোববার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সমন্বয়ক ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী। তিনি জানান, কুমেকে করোনা পরীক্ষা বন্ধ। তাই আমরাও আপাতত স্যাম্পল সংগ্রহ বন্ধ রেখেছি। খুব জরুরি না হলে এখন আমরা স্যাম্পল নিচ্ছি না। তবে পরীক্ষা শুরু হলে আবারও স্যাম্পল নেওয়া শুরু হবে বলে জানান তিনি।
কুমেক সূত্র জানায়, গত ২৯ এপ্রিল থেকে কুমেকে আনুষ্ঠানিকভাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমে এক শিফট চালু হলেও পরবর্তীতে দুই শিফটে কাজ করা হয়। কখনও কখনও কাজের চাপ বেড়ে গেলে তিন শিফটেও নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রতি শিফটে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কুমেকে করোনা পরীক্ষা চালুর পর এই পর্যন্ত ৬ হাজার ৯০০টি কিট সরকার থেকে কুমেক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়। এর মধ্যে কুমেকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শুরুতে কাজ শিখতে গিয়েই নষ্ট করে ফেলেন প্রায় ৮০০ কিট।
সূত্রটি আরও জানায়, কিট সংকটের কারণে গত শুক্রবার থেকে কুমেকে করোনার পরীক্ষা সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে। আর ল্যাবে এখনও জমে আছে এক হাজারের বেশি স্যাম্পল। এই স্যাম্পলগুলো পরীক্ষা না হওয়াতে করোনা উপসর্গ থাকা ব্যক্তিরা জানতে পারছে না তারা করোনা পজিটিভ নাকি নেগেটিভ।
রোববার এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা.মোস্তফা কামাল আজাদ  জানান, কিট সংকটের কারণে আমাদের পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। আর এক হাজার স্যাম্পল এখনো পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। বিষয়টি আমাদের ডিজি (স্বাস্থ্য) মহোদয়কে জানানো হয়েছে। ডিজি অফিস থেকে বলেছে, বিদেশ থেকে এয়ারপোর্টে কিট চলে এসেছে। আগামী এক’দুদিনের মধ্যে কুমিল্লা কিট পৌঁছে যাবে। কিট চলে আসলে ইনশাআল্লাহ আমরা পুরোদমে আবারও কাজ শুরু করতে পারবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *