নয়া দিল্লি: 

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুঝতে যখন গোটা দেশ ব্যস্ত ঠিক সেই সময়েই প্রকৃতির ভয়ঙ্কর চোখ রাঙানি, আসছে ঘূর্ণিঝড় আমফান। আবহাওয়া দফতরের (India Metrological Department) মতে এই ঘূর্ণিঝড়টি (Cyclone Amphan) নিজের শক্তি ভয়ঙ্করভাবে বাড়িয়েছে। আগামী মঙ্গল-বুধবারের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ও ওড়িশায় রাতারাতি “মারাত্মক শক্তিশালী” হয়ে পড়া ঘূর্ণিঝড়টি (Extremely Severe Cyclone Amphan) আছড়ে পড়তে পারে। ওই দুই রাজ্যেই তাই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যে গতিতে আমফান এগোচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে বুধবারই এটি বাংলায় আছড়ে পড়বে। “দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের কেন্দ্রীয় অংশগুলিতে অত্যন্ত তীব্র আকার নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’। গত ছয় ঘণ্টার মধ্যে ১৩ কিলোমিটার বেগে সেটি উত্তর-উত্তর-পূর্বের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে, অত্যন্ত তীব্র এই ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশই আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে” একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর।

আয়লার থেকেও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে রাজ্যের দিকে এগিয়ে আসছে আমফান

আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে এই ঝড়টি আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়টি সম্ভবত উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। এটি মূলত আগামী ২০ মে বিকেল বা সন্ধে নাগাদ পশ্চিমবঙ্গের দিঘা উপকূল ও বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপপুঞ্জের উপর দিয়ে আছড়ে পড়তে পারে। আমফানের “অত্যন্ত মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়”-এ রূপান্তরিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা।

আবহাওয়া দফতরের সতর্কতাগুলি মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত। উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে প্রতিকূল আবহাওয়া তৈরি হওয়ার কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টা আগে “হলুদ সতর্কতা” বা “সাইক্লোন সতর্কতা” জারি করা হয়। উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রত্যাশিত সময় শুরু হওয়ার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে একটি “কমলা সতর্কতা” জারি করা হয়। আপাতত পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশাকে “হলুদ” সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ঝড়ের বিধ্বংসী রূপের আশঙ্কায় ওড়িশাতে মোতায়েন করা হয়েছে এনডিআরএফের ১৭ টি দল।

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় “আমফান”, রাজ্য জুড়ে প্রবল ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা

এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে উপকূল সংলগ্ন জেলা অর্থাৎ কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবারের থেকে বুধবার ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে পূর্বাভাসে। এই দু’দিন দক্ষিণবঙ্গের এই সাত জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপান বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে এই ঘূর্ণিঝড় যদি আছড়ে পড়ে তবে তার পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোটা রাজ্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলগুলিকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজের জন্য উপকূলীয় অঞ্চল এবং অন্যান্য জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে।

NDTV বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *