লিটন দাসের ব্যাটিংয়ের চেয়ে তাঁর কথাবার্তা বেশি পছন্দ ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জির।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বয়স পাঁচ বছর হয়েছে। কিন্তু ধারবাহিকতা শব্দটা লিটন দাসের নামের পাশে কোনোভাবেই যোগ করা যাচ্ছিল না। ওয়ানডে গড় ছিল ২০ এর ঘরে। চোখের পলকে ২০-৩০ রান করে আউট হচ্ছিলেন নিয়মিত। বড় ইনিংসের সুযোগ পেয়ে ভুল শটে আউট হওয়া অভ্যাসে পরিনত করেছিলেন। কিন্তু দারুণ প্রতিভাবান হওয়ায় একের পর এক সুযোগ দেওয়া হয় লিটনকে। নির্বাচক, কোচ ও জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও অপেক্ষায় ছিলেন, কবে প্রতিভা পরিনত হবে পারফরম্যান্সে।

গত বিপিএল থেকেই হাওয়া বদলের শুরু। অনেক শটের মালিক লিটন পুরো বিপিএল খেলেছেন শট কমিয়ে। ইনিংসের শুরুতে বাতাসে না খেলে মাটিতে খেলার চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। শুধু শট নির্বাচনে সচেতন হয়েই ধারাবাহিকতার খোঁজ পান লিটন। ব্যক্তি লিটনেও বড় পরিবর্তন আসে। ক্রিকেট দর্শন ও মানসিকতায় এসেছে পরিনত বোধ।

ঘরোয়া ক্রিকেটের ধারবাহিকতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও টেনে আনেন লিটন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে জোড়া সেঞ্চুরি গড়ে রেকর্ড ভাঙ্গেন। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ১৭৬ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের মালিক বনে যান তিনি। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ধারাবাহিকতার দেখা পান লিটন।

কিন্তু নতুন লিটনের ধারবাহিক রানের চেয়ে তাঁর কথাবার্তা নাকি বেশি পছন্দ ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জির। ক্রিকেট নিয়ে লিটনের ভাবনা-চিন্তার পরিবর্তন মুগ্ধ করেছে ম্যাকেঞ্জিকে। প্রথম আলোর সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, ‘লিটনের ২০-৩০ রান করে আউট হয়ে যাওয়া নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে অনেক আলোচনা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। তবে রান করার চেয়ে ও এখন যেভাবে কথা বলে সাংবাদিকদের সঙ্গে, সেটা আমাকে বেশি মুগ্ধ করছে। সে এখন শট কমিয়ে ফেলছে, বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান হওয়ার কথা বলছে, ধারবাহিক হওয়ার কথা বলছে। এই মানসিকতাটাই আসল।’

ম্যাকেঞ্জি মনে করেন, লিটনের পারফরম্যান্স এক ঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারকে ধারাবাহিক হতে উৎসাহিত করবে। বাকিরাও চাইবে লিটনের মতো হতে। প্রতিযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশ ক্রিকেটও এগিয়ে যাবে। ম্যাকেঞ্জি বলছিলেন, ‘ওর সঙ্গে এখন যারা খেলছে, তাঁরাও দেখবেন লিটনের ধারেকাছে পৌছানোর জন্য লড়বে। একজন আরেকজনের খেলা থেকে শিখবে। সবাই সবার কাছ থেকে শিখবে। দল বড় হয় এভাবেই। তরুণদের দল থেকে এক জনের বাক্স থেকে বেরিয়ে আসতে হতো। লিটন সেটা করেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *