গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরো ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৭৪৩ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮৮৮ জনের। আর সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৬৯  জন।

আজ রবিবার (৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন প্রকাশে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে দেশে আরো ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁরা ৩৫ জন পুরুষ এবং সাতজন নারী। এঁদের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে তিনজন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮৮৮  জনের।

জানানো হয়, নতুন যে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা ঢাকা বিভাগের ২৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের আটজন, সিলেট বিভাগের দুইজন, রাজশাহী বিভাগের দুইজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের একজন এবং খুলনা বিভাগের দুইজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩০ জন এবং বাসায় ১২ জন।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৭৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৯০৩ জন।

ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৪২টি। আর ৫২টি ল্যাবে পরীক্ষা হয়েছে পূর্বের নমুনাসহ ১৩ হাজার ১৩৬টি। এর মধ্যে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে দুই হাজার ৭৪৩ জনকে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৬৯ জন। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তিন লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৭টি।

জানানো হয়, করোনা পরীক্ষায় আরো দুটি ল্যাব যুক্ত হয়েছে। ল্যাব দুটি হলো রাজধানীর সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার ও গাজীপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল। এ নিয়ে দেশে করোনা পরীক্ষায় কাজ করছে ৫৫টি ল্যাব।

আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৪৬৭ জনকে। একইসময় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২৩০ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন সাত হাজার ৩৯৯ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন চার হাজার ১৭৫ জন।

বুলেটিনে জানানো হয়, ঢাকাসহ সারা দেশে মোট আইসোলেশন সংখ্যা ১৩ হাজার ২৮৪টি। বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে সাত হাজার ২৫০টি এবং ঢাকা সিটির বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশন শয্যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৩৪টিতে।

কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গেও তথ্য দেওয়া হয় বুলেটিনে। বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এসেছেন এক হাজার ৯৭৫ জন। একইসময় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৫৭৬ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট তিন লাখ এক হাজার ১৯৭ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ ৪৫ হাজার ৫০১   জন। ছাড়ের পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৫ হাজার ৬৯৬ জন।

সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে সেবা প্রদান যায় বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং আইইডিসিআর’র হটলাইনে কল এসেছে এক লাখ ৭৪ হাজার ৫৩৯টি। এসব কলে সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত হটলাইনে ৯৯     লাখ ৫৭ হাজার ১০০ জনকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েছে আরো সাতজন। এ নিয়ে এখন মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ হাজার ২৮৬ জনে। এ ছাড়া বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে হটলাইনে চার হাজার ২১৭ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *